হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় ফসলি জমি ও বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ‘তাবিজ ফারুক’ নামে এক ব্যবসায়ী এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তার মাধ্যমে উত্তোলিত বালু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত তাবিজ ফারুক বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, এর আগেও তিনি আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ব্যবসায়ীরা সিলিকা বালু সংগ্রহ করে প্রথমে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের শাকিল ব্রিক ফিল্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে মজুদ করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাবিজ ফারুক পাইকারি দামে বালু কিনে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন।
জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি বাহুবল উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম অবৈধভাবে সিলিকা বালুর ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে তাবিজ ফারুককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এরপরও তিনি কার্যক্রম বন্ধ না করে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার একাধিক ছড়া ও কৃষিজমি থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। কৃষকরা জমি হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও জানান তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রশাসনের নজর এড়াতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হয়। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, নির্মাণ খাতে সিলিকা বালুর চাহিদা বাড়ায় এই অবৈধ ব্যবসা দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযুক্ত তাবিজ ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে বৈধভাবে সিলিকা বালু ক্রয় করে তা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন। তিনি স্বীকার করেন, পূর্বে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল, তবে সেটিকে তিনি “ভুল বোঝাবুঝির ফল” বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সচেতন মহল দ্রুত এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাহুবল উপজেলার পরিবেশ ও কৃষি খাত দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।