
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় সদ্য আগত অ্যালবিনো জাতের সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটিকে ঘিরে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও এর খাবার ও পরিচর্যায় নিয়েছে বিশেষ নজরদারি।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, মহিষটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ কেজি নেপিয়ার জাতের সবুজ ঘাস খায়। পাশাপাশি দৈনিক পাঁচ কেজি করে ছোলা ও ভুসির মিশ্রণ সরবরাহ করা হচ্ছে। শরীরের পানির চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় আধা মণ (২০ কেজি) পানি পান করছে প্রাণীটি। প্রয়োজনে খাবারের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
চিড়িয়াখানার নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টায় প্রথম দফায় ছোলা-ভুসির খাবার দেওয়া হয়।
এরপর বেলা ১১টায় প্রথম দফার ঘাস এবং দুপুরের বিরতির পর বেলা ২টার দিকে দ্বিতীয় দফার ঘাস সরবরাহ করা হয়। বিকেল ৩টায় আবার ছোলা-ভুসির মিশ্রণ দেওয়ার মাধ্যমে দিনের খাবার শেষ করা হয়।
বর্তমানে মহিষটিকে চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাঁচার সামনে বাংলা ও ইংরেজিতে পরিচিতি ফলক টানানো হয়েছে। নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে এটিকে মূল সীমানা প্রাচীর থেকে ২০-২৫ ফুট দূরত্বে বেঁধে রাখা হয়েছে। ফলে কিছু দর্শনার্থী কাছ থেকে দেখতে না পেরে খানিকটা হতাশ হলেও ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ জন্ম নেওয়া এই মহিষটির মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা। মাথার চুলের অদ্ভুত গঠন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্টাইলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় শখ করে এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গত ১২ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসে প্রাণীটি।
পরবর্তীতে কোরবানির জন্য কেরানীগঞ্জের এক ক্রেতা মহিষটি কিনে নিলেও এর বিরলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ সেটিকে উদ্ধার করে। পরে চূড়ান্তভাবে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয় এই আলোচিত সাদা মহিষটি।
বাহুবল বার্তা ডেস্ক 













