
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাদেশ্বর (ঘোলগাঁও) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। বিকল্প হিসেবে সেখানে নির্মিত হয়েছে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকু, যা দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে করাঙ্গী নদীর প্রবল স্রোতে সড়কটির একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো সংস্কার বা ভরাটের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নতুন করে বর্ষা ঘনিয়ে আসায় এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙা সড়কের স্থানে বাঁশের তৈরি সরু সাঁকু দিয়ে পারাপার করছেন নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা। এলাকাটিতে ভাদেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এছাড়া জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে এই সাঁকু ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, পাশের ফয়জাবাদ স্কুল ও কলেজে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা এলে নদীর পানি বেড়ে গেলে কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়ে।
ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিক ফারুক বলেন, সড়কটি নিচু হওয়ায় নদীর পানি প্রায়ই উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাঙনের সৃষ্টি করে। দ্রুত ভরাট করা হলে স্থানীয় মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবেন।
এলাকাবাসী জনস্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হাবিবুর রহমান নোমান 












