Dhaka ০৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাহুবলের মিরপুরে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ এইচএসসি পাস করলেন জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা বাহুবলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা অনুমতি ছাড়া মেলার আয়োজন, প্রশাসনের অভিযানে পণ্ড হলো মিরপুরের বাণিজ্যমেলা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা এবং ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর অবশেষে বাতিল করা হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। মাদারীপুরের শিবচরে আধুনিক চারতলা ডাকবাংলো ভবনের উদ্বোধন, সেলাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সনদ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, আফগানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের হবিগঞ্জে জমিয়ত মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামের দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফর ও মতবিনিময় ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নজির বাহুবলে

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি এক যুগেও শেষ হয়নি বিচার, ধুঁকছে আহত শ্রমিকরা

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের জীবনে এখনও কাটেনি অন্ধকারের ছায়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক। আহত হন আরও প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।

ভবন ধসে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় ওই সময় ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। ১৩ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয়নি এসব মামলার বিচার। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

শিলা আক্তার, রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরাদের একজন। তিনি বলেন, মেরুদণ্ডের আঘাত নিয়ে চলাফেরা, অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন। আমাদের উন্নত চিকিৎসার দরকার। আমাদের ট্রাস্ট থেকে যেটা চিকিৎসা দেয় এতে আমাদের কিছুই হয় না এবং ওনাররা যে ট্যাবলেটের পাতাটা দেয় ওই ট্যাবলেটের পাতাটা আবার ওনাগো হিসাব করে দিতে হয়, যদি না দেয় তাহলে আমাদের ওষুধ বন্ধ করে দেয়। ১৪টা বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু আমার সরকারি চিঠিতে আসছে শুধুমাত্র ৩৪ হাজার, এটাই কি আমার জীবনের ক্ষতিপূরণ বলেন?

আরও পড়ুনঃ  অনুমতি ছাড়া মেলার আয়োজন, প্রশাসনের অভিযানে পণ্ড হলো মিরপুরের বাণিজ্যমেলা

সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি সাদ্দাম হোসেন। হারিয়েছেন একটি হাত, তারপর থেকেই থমকে গেছে স্বপ্ন। ধুঁকে ধুঁকে চলছে জীবন।

তিনি বলেন, আমার কর্মজীবনের ২০ দিনের মাথায় আমি আমার এখান থেকে আমি আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছি। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আমি একজন কি পঙ্গু বেকার প্রতিবন্ধী হয়ে গেছি। আমি শিক্ষিত একটা ছেলে মাস্টার্স পাস বেকার এখনো বেকার। কোন কর্ম এখনও পাইনি, সামনে পাবো কিনা তাও জানি না।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ

রানা প্লাজা ধসে বেঁচে ফেরা সবারই কমবেশি একই চিত্র। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সহায়তা মিললেও তা অপ্রতুল। খোঁজও রাখেন না কেউ। আমরা কর্ম করতে পারি না কিসের জন্য? আমরা পঙ্গু হয়ে গেছি। আমরা চাই আমাদের ক্ষতিপূরণ দিক। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলো তা তো আমরা কিছু করতে হেরা আশ্বাস দিল, আশ্বাস দিয়েও আমাদের নিরাশ করে ফেলল।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতারা দাবি জানান, ঘটনার বিচার, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থার। আমাদের যে দাবিগুলো আছে সে দাবিগুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করেছি এবং বিগত সরকারকে আমরা বারবার বলেছি- আমাদের এক জীবনের আয় সমান পরিমাণ ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার, উন্নত চিকিৎসা এবং আমাদের স্থায়ী পুনর্বাসন।

সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু রানা প্লাজা শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় না। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১ হাজার ১৩৫ শ্রমিক, আহত হনআরও প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।

Tag :

বাহুবলের মিরপুরে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি এক যুগেও শেষ হয়নি বিচার, ধুঁকছে আহত শ্রমিকরা

আপডেটের সময়: ১১:৫৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের জীবনে এখনও কাটেনি অন্ধকারের ছায়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক। আহত হন আরও প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।

ভবন ধসে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় ওই সময় ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। ১৩ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয়নি এসব মামলার বিচার। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

শিলা আক্তার, রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরাদের একজন। তিনি বলেন, মেরুদণ্ডের আঘাত নিয়ে চলাফেরা, অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন। আমাদের উন্নত চিকিৎসার দরকার। আমাদের ট্রাস্ট থেকে যেটা চিকিৎসা দেয় এতে আমাদের কিছুই হয় না এবং ওনাররা যে ট্যাবলেটের পাতাটা দেয় ওই ট্যাবলেটের পাতাটা আবার ওনাগো হিসাব করে দিতে হয়, যদি না দেয় তাহলে আমাদের ওষুধ বন্ধ করে দেয়। ১৪টা বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু আমার সরকারি চিঠিতে আসছে শুধুমাত্র ৩৪ হাজার, এটাই কি আমার জীবনের ক্ষতিপূরণ বলেন?

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারেননি সাদ্দাম হোসেন। হারিয়েছেন একটি হাত, তারপর থেকেই থমকে গেছে স্বপ্ন। ধুঁকে ধুঁকে চলছে জীবন।

তিনি বলেন, আমার কর্মজীবনের ২০ দিনের মাথায় আমি আমার এখান থেকে আমি আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছি। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আমি একজন কি পঙ্গু বেকার প্রতিবন্ধী হয়ে গেছি। আমি শিক্ষিত একটা ছেলে মাস্টার্স পাস বেকার এখনো বেকার। কোন কর্ম এখনও পাইনি, সামনে পাবো কিনা তাও জানি না।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, যুব ঋণ বিতরণ

রানা প্লাজা ধসে বেঁচে ফেরা সবারই কমবেশি একই চিত্র। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সহায়তা মিললেও তা অপ্রতুল। খোঁজও রাখেন না কেউ। আমরা কর্ম করতে পারি না কিসের জন্য? আমরা পঙ্গু হয়ে গেছি। আমরা চাই আমাদের ক্ষতিপূরণ দিক। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলো তা তো আমরা কিছু করতে হেরা আশ্বাস দিল, আশ্বাস দিয়েও আমাদের নিরাশ করে ফেলল।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পাস করলেন জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতারা দাবি জানান, ঘটনার বিচার, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থার। আমাদের যে দাবিগুলো আছে সে দাবিগুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম করেছি এবং বিগত সরকারকে আমরা বারবার বলেছি- আমাদের এক জীবনের আয় সমান পরিমাণ ক্ষতিপূরণ এবং ন্যায়বিচার, উন্নত চিকিৎসা এবং আমাদের স্থায়ী পুনর্বাসন।

সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু রানা প্লাজা শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় না। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১ হাজার ১৩৫ শ্রমিক, আহত হনআরও প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।