
বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান ইতিহাস গবেষক, বরেণ্য লেখক ও ইসলামী চিন্তাবিদ তরফরত্ন সৈয়দ আব্দুল্লাহ’র জীবন ও কর্মভিত্তিক গ্রন্থ ‘আমার আব্বা’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরই সুযোগ্য সন্তান, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ প্রণীত এ গ্রন্থে বিশিষ্ট এই মনীষীর জীবন, কর্ম, চিন্তা-দর্শন এবং সমাজে তাঁর অবদানের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০টায় উপজেলার উত্তরসুরে তাঁর নিজ বাসভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তরফ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ ফারুক উদ্দীন চৌধুরী। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক স্মৃতিচারণমূলক ও সুধীসমাবেশে, যেখানে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম মাওলানা আব্দুল বারী আনসারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের প্রভাষক আইয়ুব আলী, বরুণা মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আব্দুল হাই, মাওলানা নুরুল আমীন, বাহুবল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রব শাহীন, শিক্ষানুরাগী নাজির হোসেন হাসু, কাজী আলফু, কাদীর চৌধুরী বাবুল, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল আওয়াল তহবিলদার সবুজ, ফয়সাল চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মনি, পুটিজুরী শরৎচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পংকজ কান্তি গোপ এবং ইংল্যান্ড প্রবাসী অ্যাডভোকেট এম এ মুহিতসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে তরফরত্ন সৈয়দ আব্দুল্লাহ’র বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের নানা দিক গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, ইতিহাস গবেষণায় তাঁর অবদান শুধু বাহুবল বা হবিগঞ্জের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি সমগ্র বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর লেখনীতে ইতিহাসচর্চা যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, তেমনি ইসলামী চিন্তা ও সাহিত্যেও তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার আব্বা’ গ্রন্থটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে একজন মনীষীর ব্যক্তিজীবন, আদর্শ, সংগ্রাম ও সাফল্যের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে, যা পাঠকদের অনুপ্রাণিত করবে। এ ধরনের গবেষণাধর্মী ও স্মৃতিমূলক গ্রন্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস জানতে ও নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হতে সহায়তা করবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরফরত্ন সৈয়দ আব্দুল্লাহ’র স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে একটি পাঠাগার ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁর অপ্রকাশিত লেখা ও গবেষণাকর্ম সংগ্রহ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গ্রন্থের লেখক সৈয়দ আনোয়ার আব্দুল্লাহ উপস্থিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর পিতার স্মৃতিকে ধারণ করে এই গ্রন্থ প্রণয়নের পেছনের প্রেরণার কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ৫৬০ পৃষ্ঠার ‘আমার আব্বা’ গ্রন্থটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বইটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রকমারি ডটকমে পাওয়া যাবে। এছাড়া আগামী ২ জুন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে জেলা পর্যায়ে গ্রন্থটির আরেকটি মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
বাহুবল বার্তা ডেস্ক 









