Dhaka ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহি বাহুবলে আদর্শ মিষ্টি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, জরিমানা ১ লাখ টাকা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে মিরপুর কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াল সাময়িক বহিষ্কার, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বাহুবলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন’ বাহুবল থেকে মাধবপুরের কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন আইসি ইকতার মিয়া বাহুবলে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত বাহুবলের হরাইটেকায় চায়ের বিল নিয়ে তর্কের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১৫-২০

পাহাড়ি ঢলের চাপে ফের ভাঙল খোয়াই বাঁধ, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় আবারও খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এর আগে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিশেষ বরাদ্দে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ভারতের পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপে সংস্কার করা অংশ ফের ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে নতুন করে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করায় বহু বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

বাঁধ ভাঙার কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ। তিনি ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর নদীর পানি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এর আগে গত ৯ জুলাই লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ বরাদ্দে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের চাপে সংস্কার করা অংশ ফের ভেঙে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন করে সদর উপজেলার পইল ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ বাঁধসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের চাপ পড়ায় বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে যায় বলে দাবি তাদের।

তাদের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চলতে থাকায় নদীর তীর ও বাঁধ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে কালীগঞ্জ এলাকায় ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বাঁধ সংস্কার করলেই হবে না। খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কাটা রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে নদীর পানি আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে নতুন করে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

পাহাড়ি ঢলের চাপে ফের ভাঙল খোয়াই বাঁধ, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

আপডেটের সময়: ০৫:১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় আবারও খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এর আগে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিশেষ বরাদ্দে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ভারতের পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের চাপে সংস্কার করা অংশ ফের ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে নতুন করে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করায় বহু বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের খামার ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

বাঁধ ভাঙার কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ। তিনি ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর নদীর পানি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এর আগে গত ৯ জুলাই লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ওই সময় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ বরাদ্দে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের চাপে সংস্কার করা অংশ ফের ভেঙে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, লস্করপুর, পইল, তেঘরিয়া, আলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন করে সদর উপজেলার পইল ইউনিয়ন এবং বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ বাঁধসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের চাপ পড়ায় বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে যায় বলে দাবি তাদের।

তাদের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চলতে থাকায় নদীর তীর ও বাঁধ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে কালীগঞ্জ এলাকায় ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছিল। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বাঁধ সংস্কার করলেই হবে না। খোয়াই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কাটা রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে নদীর পানি আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে নতুন করে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।