
দীর্ঘ ১৩ বছর পর হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাহুবল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন াশঅনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সাংগঠনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার তিন বছর মেয়াদি নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ১২টি পদের বিপরীতে মোট ২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমানে ১০টি পদে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন—প্রচার সম্পাদক পদে মুড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সিব্বির আহমেদ আখঞ্জী এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে ফয়জাবাদ মহাবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামছুদ্দিন মো. আসআদ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা কোনো পোস্টার বা প্রতীক ব্যবহার না করে সরাসরি শিক্ষক ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও সমর্থন আদায়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যস্ততা বাড়লেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রণধীর চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতি তিন বছর পরপর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিভিন্ন সাংগঠনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১৩ বছর পর এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ১০টি পদে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে। কোনো প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেননি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাহুবল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫৪৭ জন শিক্ষক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল তালুকদার।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটার শিক্ষকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে ভোটাররা শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে বাহুবলের প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বাহুবল বার্তা ডেস্ক 








