Dhaka ০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহি বাহুবলে আদর্শ মিষ্টি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, জরিমানা ১ লাখ টাকা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে মিরপুর কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াল সাময়িক বহিষ্কার, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বাহুবলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন’ বাহুবল থেকে মাধবপুরের কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন আইসি ইকতার মিয়া বাহুবলে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত বাহুবলের হরাইটেকায় চায়ের বিল নিয়ে তর্কের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১৫-২০

৯২ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: এক মাসেই ধসে পড়ল পুটিজুরী ভূমি অফিসের ক্যান্টিলিভার ছাদ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ভূমি অফিসের নবনির্মিত ভবনের সামনের ক্যান্টিলিভার ছাদ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় শুক্রবার ভোরে হঠাৎ ছাদটি ভেঙে পড়ে। তবে ভোরে ঘটনাটি ঘটায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি ভবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণমান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

স্থানীয় বাসিন্দা ছাব্বির আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সরকারি ভবনের ক্যান্টিলিভার ছাদ মাত্র এক মাসের মধ্যে ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ভবনের নির্মাণমান পরীক্ষা করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সজিব আহমেদ বলেন, সাটারিং খোলার সময় কিছু ত্রুটির কারণে ক্যান্টিলিভার অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণকাজে কিছু অনিয়মের বিষয় তারা স্বীকার করেন এবং দ্রুত এটি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিডির আওতাধীন টিইউএলঅ-২ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৯২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিপা ভূইয়া। তবে কাজের শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এদিকে, ভবনের অন্যান্য অংশও নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণে ত্রুটি থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে যে ক্যান্টিলিভার অংশে রডের বাইন্ডিংয়ে ত্রুটি ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে হানিকম্ব সৃষ্টি হয়ে অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিকভাবে ধসে পড়েছে, নাকি ভেঙে ফেলা হয়েছে—বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্টদের ক্যান্টিলিভার অংশটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নির্মাণকাজে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

৯২ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: এক মাসেই ধসে পড়ল পুটিজুরী ভূমি অফিসের ক্যান্টিলিভার ছাদ

আপডেটের সময়: ১২:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ভূমি অফিসের নবনির্মিত ভবনের সামনের ক্যান্টিলিভার ছাদ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় শুক্রবার ভোরে হঠাৎ ছাদটি ভেঙে পড়ে। তবে ভোরে ঘটনাটি ঘটায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি ভবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণমান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

স্থানীয় বাসিন্দা ছাব্বির আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সরকারি ভবনের ক্যান্টিলিভার ছাদ মাত্র এক মাসের মধ্যে ভেঙে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো ভবনের নির্মাণমান পরীক্ষা করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সজিব আহমেদ বলেন, সাটারিং খোলার সময় কিছু ত্রুটির কারণে ক্যান্টিলিভার অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণকাজে কিছু অনিয়মের বিষয় তারা স্বীকার করেন এবং দ্রুত এটি মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিডির আওতাধীন টিইউএলঅ-২ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৯২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকা ব্যয়ে ভবনটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় হবিগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিপা ভূইয়া। তবে কাজের শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এদিকে, ভবনের অন্যান্য অংশও নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণে ত্রুটি থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে যে ক্যান্টিলিভার অংশে রডের বাইন্ডিংয়ে ত্রুটি ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে হানিকম্ব সৃষ্টি হয়ে অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিকভাবে ধসে পড়েছে, নাকি ভেঙে ফেলা হয়েছে—বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্টদের ক্যান্টিলিভার অংশটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে নির্মাণকাজে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।