Dhaka ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহি বাহুবলে আদর্শ মিষ্টি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, জরিমানা ১ লাখ টাকা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে মিরপুর কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াল সাময়িক বহিষ্কার, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বাহুবলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন’ বাহুবল থেকে মাধবপুরের কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন আইসি ইকতার মিয়া বাহুবলে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত বাহুবলের হরাইটেকায় চায়ের বিল নিয়ে তর্কের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১৫-২০

১৮৩ জনে পাস ৭৮, ফেল ১০৫—বাহুবলের দীননাথ স্কুলে ফল বিপর্যয়

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাইস্কুল দীননাথ ইনস্টিটিউশন মডেল হাই স্কুলে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফলাফল চরম হতাশাজনক হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১৮৪ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৭৮ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪২.৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী।

উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীননাথ ইনস্টিটিউশন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এবারের এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও মনোযোগীভাবে পাঠদান না করার প্রবণতার কারণেই ফলাফলে এমন বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে তারা মনে করেন।

শিক্ষানুরাগী মামুনুর রশীদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিম্নমুখী। তার অভিযোগ, অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়ার দিকে উৎসাহিত করেন। এতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়কেই আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, নতুবা ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা আরও ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই এমন ফলাফল এসেছে। অনেকেই বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা অগ্রহণযোগ্য এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

সচেতন মহলের মতে, এ ফলাফল শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো উপজেলার শিক্ষার মানের প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও কার্যকর নজরদারির অভাব থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

১৮৩ জনে পাস ৭৮, ফেল ১০৫—বাহুবলের দীননাথ স্কুলে ফল বিপর্যয়

আপডেটের সময়: ০৩:০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার একমাত্র সরকারি হাইস্কুল দীননাথ ইনস্টিটিউশন মডেল হাই স্কুলে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফলাফল চরম হতাশাজনক হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১৮৪ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৭৮ জন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪২.৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী।

উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীননাথ ইনস্টিটিউশন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এবারের এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ও মনোযোগীভাবে পাঠদান না করার প্রবণতার কারণেই ফলাফলে এমন বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে তারা মনে করেন।

শিক্ষানুরাগী মামুনুর রশীদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল নিম্নমুখী। তার অভিযোগ, অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়ার দিকে উৎসাহিত করেন। এতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়কেই আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, নতুবা ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা আরও ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই এমন ফলাফল এসেছে। অনেকেই বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা অগ্রহণযোগ্য এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

সচেতন মহলের মতে, এ ফলাফল শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো উপজেলার শিক্ষার মানের প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও কার্যকর নজরদারির অভাব থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।