Dhaka ১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কার্যকর জবাবদিহি বাহুবলে আদর্শ মিষ্টি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, জরিমানা ১ লাখ টাকা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে মিরপুর কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াল সাময়িক বহিষ্কার, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বাহুবলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন’ বাহুবল থেকে মাধবপুরের কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন আইসি ইকতার মিয়া বাহুবলে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত বাহুবলের হরাইটেকায় চায়ের বিল নিয়ে তর্কের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১৫-২০

কেওলা-ধূলিজুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র বহালের দাবি, আখলের বাজারে প্রতিবাদ সভা

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেওলা-ধূলিজুরা গ্রামের ভোটকেন্দ্র কেওলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর না করে আগের মতো কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহাল রাখার দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি আখলের বাজার এলাকায় আয়োজিত এ সভায় প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেন।
সভায় স্থানীয় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সচেতন নাগরিক, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষক, যুবসমাজ, গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল হোসেন, ভানু দাশ, ডলি বেগম, নুরজাহান বেগম, হাছন মিয়া ও হুমায়ুন আলমসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেওলা-ধূলিজুরা গ্রামের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে কেওলা গ্রামে পৃথক একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র কেওলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে কেওলা গ্রামের একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র নিয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন হলেও কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রটি নির্বাচন কমিশনের তালিকায় পূর্বের কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাই নতুন করে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন না করার দাবি জানান বক্তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কেওলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ধূলিজুরা গ্রামের তুলনায় বেশ দূরে এবং গ্রামের এক পাশে অবস্থিত। ফলে ধূলিজুরা গ্রামের ভোটারদের সেখানে গিয়ে ভোট দেওয়া দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য দূরত্বটি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

অন্যদিকে, কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কেওলা ও ধূলিজুরা—দুই গ্রামের কাছাকাছি হওয়ায় অধিকাংশ ভোটারের জন্য যাতায়াত সহজ। ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও সেখানে রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেওলা গ্রামে প্রায় ৮০০ এবং ধূলিজুরা গ্রামে প্রায় ১ হাজার ১০০ ভোটার রয়েছেন।

বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তাই আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তন না করে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই বহাল রাখা উচিত।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

সভা থেকে জনস্বার্থ, ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা এবং বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেওলা ও ধূলিজুরা গ্রামের ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখার জোর দাবি জানানো হয়।

এদিকে, গত ১০ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ‘৪ নম্বর পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেওলা-ধূলিজুরা গ্রামের ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রসঙ্গে’ একটি আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা, বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

কেওলা-ধূলিজুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র বহালের দাবি, আখলের বাজারে প্রতিবাদ সভা

আপডেটের সময়: ০২:০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেওলা-ধূলিজুরা গ্রামের ভোটকেন্দ্র কেওলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর না করে আগের মতো কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহাল রাখার দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি আখলের বাজার এলাকায় আয়োজিত এ সভায় প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেন।
সভায় স্থানীয় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সচেতন নাগরিক, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষক, যুবসমাজ, গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল হোসেন, ভানু দাশ, ডলি বেগম, নুরজাহান বেগম, হাছন মিয়া ও হুমায়ুন আলমসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেওলা-ধূলিজুরা গ্রামের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে কেওলা গ্রামে পৃথক একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র কেওলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী বাহুবলের গৌরব রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনির্মাণে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতা

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে কেওলা গ্রামের একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র নিয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন হলেও কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রটি নির্বাচন কমিশনের তালিকায় পূর্বের কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাই নতুন করে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন না করার দাবি জানান বক্তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কেওলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ধূলিজুরা গ্রামের তুলনায় বেশ দূরে এবং গ্রামের এক পাশে অবস্থিত। ফলে ধূলিজুরা গ্রামের ভোটারদের সেখানে গিয়ে ভোট দেওয়া দুর্ভোগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য দূরত্বটি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে অনেক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

অন্যদিকে, কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কেওলা ও ধূলিজুরা—দুই গ্রামের কাছাকাছি হওয়ায় অধিকাংশ ভোটারের জন্য যাতায়াত সহজ। ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও সেখানে রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেওলা গ্রামে প্রায় ৮০০ এবং ধূলিজুরা গ্রামে প্রায় ১ হাজার ১০০ ভোটার রয়েছেন।

বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তাই আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তন না করে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই বহাল রাখা উচিত।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে বজ্রপাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত

সভা থেকে জনস্বার্থ, ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা এবং বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেওলা ও ধূলিজুরা গ্রামের ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখার জোর দাবি জানানো হয়।

এদিকে, গত ১০ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ‘৪ নম্বর পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেওলা-ধূলিজুরা গ্রামের ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রসঙ্গে’ একটি আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা, বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে কেওলা-ধূলিজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে।