Dhaka ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা অনুমতি ছাড়া মেলার আয়োজন, প্রশাসনের অভিযানে পণ্ড হলো মিরপুরের বাণিজ্যমেলা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা এবং ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর অবশেষে বাতিল করা হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। মাদারীপুরের শিবচরে আধুনিক চারতলা ডাকবাংলো ভবনের উদ্বোধন, সেলাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সনদ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, আফগানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের হবিগঞ্জে জমিয়ত মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামের দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফর ও মতবিনিময় ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নজির বাহুবলে বাহুবলে দুর্ধর্ষ কাভার্ডভ্যান ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার বাহুবলে বন বিভাগের অভিযানে উদ্ধার আড়াই একর বনভূমি হবিগঞ্জ জেলা ভেকু শ্রমিক ইউনিয়নের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন

বাহুবলে ৫৫ পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব, জোরদার নিরাপত্তা

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫৫টি পূজামণ্ডপে চলছে উৎসবের আয়োজন। এর মধ্যে ৩৩টি স্থায়ী ও ২২টি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ রয়েছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ট্যাগ অফিসার। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে উপজেলার চারটি মন্দিরে প্রচলিত নিয়মে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

আরও পড়ুনঃ  অনুমতি ছাড়া মেলার আয়োজন, প্রশাসনের অভিযানে পণ্ড হলো মিরপুরের বাণিজ্যমেলা

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে স্নানঘাটে ১১টি, পুটিজুরীতে ৯টি, সাতকাপনে ৫টি, বাহুবল সদরে ৪টি, লামাতাশীতে ৭টি, মিরপুরে ৭টি এবং ভাদেশ্বরে ১২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ভাদেশ্বর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি এবং বাহুবল সদর ইউনিয়নে সবচেয়ে কম পূজামণ্ডপ রয়েছে।

পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “আমরা ৫৫টি পূজামণ্ডপে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছি। তাঁরা মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা যাচাই করবেন। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল চন্দ্র সাহা বলেন, পূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে উৎসব চলাকালে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন তালুকদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এবার উপজেলায় চারটি মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্নানঘাট ইউনিয়নের একটি মন্দিরে প্রতিমা পরের বছর বিসর্জন দেওয়ার রীতি রয়েছে। সাতকাপন ও লামাতাশী ইউনিয়নের একটি করে মন্দিরে স্থায়ী প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিরপুর ইউনিয়নের একটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরি না করে ছবির মাধ্যমে দেবীর পূজা করা হয়। এ কারণে এসব মন্দিরে প্রচলিত নিয়মে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে না।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সমাগম ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রশাসন ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গাপূজা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

বাহুবলে ৫৫ পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব, জোরদার নিরাপত্তা

আপডেটের সময়: ১১:০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫৫টি পূজামণ্ডপে চলছে উৎসবের আয়োজন। এর মধ্যে ৩৩টি স্থায়ী ও ২২টি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ রয়েছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে ট্যাগ অফিসার। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে উপজেলার চারটি মন্দিরে প্রচলিত নিয়মে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

আরও পড়ুনঃ  অনুমতি ছাড়া মেলার আয়োজন, প্রশাসনের অভিযানে পণ্ড হলো মিরপুরের বাণিজ্যমেলা

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে স্নানঘাটে ১১টি, পুটিজুরীতে ৯টি, সাতকাপনে ৫টি, বাহুবল সদরে ৪টি, লামাতাশীতে ৭টি, মিরপুরে ৭টি এবং ভাদেশ্বরে ১২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক হিসাবে ভাদেশ্বর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি এবং বাহুবল সদর ইউনিয়নে সবচেয়ে কম পূজামণ্ডপ রয়েছে।

পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, “আমরা ৫৫টি পূজামণ্ডপে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছি। তাঁরা মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না, তা যাচাই করবেন। সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি নিখিল চন্দ্র সাহা বলেন, পূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে, পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে উৎসব চলাকালে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন তালুকদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এবার উপজেলায় চারটি মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্নানঘাট ইউনিয়নের একটি মন্দিরে প্রতিমা পরের বছর বিসর্জন দেওয়ার রীতি রয়েছে। সাতকাপন ও লামাতাশী ইউনিয়নের একটি করে মন্দিরে স্থায়ী প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মিরপুর ইউনিয়নের একটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরি না করে ছবির মাধ্যমে দেবীর পূজা করা হয়। এ কারণে এসব মন্দিরে প্রচলিত নিয়মে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে না।

আরও পড়ুনঃ  বাহুবলে অবৈধ বালু পরিবহনে রাত ১টায় অভিযান, জরিমানা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সমাগম ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রশাসন ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গাপূজা।